ওয়েস্ট ল্যান্ড ও আমরা
উৎসর্গ : কবি আলমগীর রেজা চৌধুরী
ওয়েস্ট ল্যান্ড টি এস এলিঅটের একটি কবিতা, যা সারা বিশ্বের কাব্যপ্রেমিদের কাছে একটি অতি পরিচিত ও পাঠ্য কবিতা, যেখানে তারা বিশ দশকি সময়ের একটি বেদনার্ত চিত্রবলি উপলব্ধি করেন। এখনও সেই পাঠ ও উপলব্ধি বহতা নদির মতো বহমান।
আমরা যে সময়ের মধ্যে বাস করছি, যারা লেখালেখি করছি, কিংবা আমাদের যাপনের চারপাশে যাদের উপস্থিতি আমরা উপলব্ধি করছি এর সঙ্গে যদি ওয়েস্ট ল্যান্ড এর পরিপপ্রেক্ষিতকে বসিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আমাদের ভেতরে হিম শীতল রক্তের প্রবহমানতা বয়ে যাবে, তা আমাদের মধ্যে ক’জনে উপলব্ধি করবে, বলা মুশকিল।
ওয়েস্ট ল্যান্ড এর পর কত সময় গেল, কত নদির জল এদিক থেকে ওদিকে বয়ে গেল, তা তো চোখের সামনে দেখলাম।
চারপাশের মানুষ কত বিচিত্রধরমি, কত বিকলাঙ্গ মানসিকতার কাজসমূহ। একে লগ্ন করে যদি আমরা ওয়েস্ট ল্যান্ড এর সময়কে একটি পাঠাতনে ফেলে দেখি তাহলে এ দু’য়ের কী তফাত দেখব, তা সহজে বলা যায়। খুব্ একটা ব্যবধান কি আমরা দেখি? না, খুব একটা দেখি না।
বরং বলা যায়, আরও বিপদজনক পরিস্থিতি যা এটিঅট এঁকেছেন তাঁর ওয়েস্ট ল্যান্ড এ, তা কিন্তু অামাদের বআগের ও পরের কোন সময়ের কবিরা কি সক্ষম হয়েছেন কোন কাব্য পাঠকদের উপহার দিতে? এটা একটি প্রশ্নবোধক।
ইতোমধ্যে কোন কবি কিবা লেখক এর সমতুল যেমন রবীন্দ্রনাথ এর সঙ্গে অথবা হালের জীবনানন্দ এর পরের পরযায়ের কবি বলে নিজের ঘোষণা দিয়েছেন। নিজে কিংবা ছদ্মনামে প্রবন্ধও লিখেছেন।
নব্বেইয়ের দশকেও এই দৌড় আমরা দেখেছি, যা খুবই বেদনাময়. সঙ্গে কৌতুকময়। বহাল আয়েশে তারা একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে একক সংখ্যা কিংবা বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখেছেন, লিখিয়েছেন। তাতে কী লাভ হল তারাই কেবল বলতে পারবে।
সময় খুবই নির্মম। জীবনানন্দ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু এটা সত্য যে, আমরা কেউ সময় থেকে শিক্ষাি নেই না।
কবি মজিদ মাহমুদ এর এ্কটি কথা খূবই মূল্যবান। লিখে যান, কে কি বলল, সেদিকে তাকাবেন না, লেখাই জরুরি।
এটা সবা্র জন্য প্রযোজ্য।
একবার সত্তর দশকের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ছিলাম। কলকাতা। ১৭ /২০ (মনে নেই সংখ্যাটা) কবি তাদের বউসহ সফরসঙ্গি হয়েছিলেন। সঙ্গে মজিদ মাহমুদ ও আমি। মজিদ মাহমুদ সত্তর দশকের উপর মূল প্রবন্ধ পড়েছিলেন।
সেই অনুষ্ঠানে কবি আবিদ আজাদ, যিনি এখন পৃথিবীতে নেই, একটি অতি মূল্যবান কথা বলেছিলেন, তা হল: শোনেন হামিদ রায়হান, কবিদের এওয়েস্ট ল্যান্ড ও আমরাকটি জায়গায় সৎ হয়ত হয়। এটি হল কবিতার কাছে। অন্য জায়গায় সে কি, তা অন্য বিষয়।
আমরা যে সময়ে বাস করছি তা কি ওয়েস্ট ল্যান্ড এর বাইরে কোন সময়, পাঠক আপনি বলুন।
এলিঅট এখন বড় মন্দা যাচ্ছে, কী বিপদজনক সময় আমরা অতিক্রম করছি, তা আপনার ওয়েস্ট ল্যান্ড এর চেয়ে আরও কঠিন, অনুভবহীন বন্ধ্যা সময়?
কবিতার চেয়ে আমার সময়ের কবি ও লেখকের কাছে চেয়ার ও ক্ষমতা বড় প্রিয়। যারা সেই স্থানে বসে আছেন, তারাই এখন আপনার চেয়ে বড়, মহান কবি।
এ কারণে, সত্তরের একজন কবি আবিদ আনোয়ার নিজের সময়কে নিয়ে লিখতে ভয় পান, বলেন, কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলায় জড়াতে চাই না। আর যারা লিখেছেন, তারা ...। থাক।
এর থেকে একটি পথ আপনি আমাদের বাদলে দেন, এলিঅট,দিবেন কি?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন